সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন সুরাইয়া বেগম নামে এক নারী। গত রবিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এ মামলার আবেদন করেন। মামলার বাদীর আইনজীবী হরে কৃষ্ণ জানান, ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমান বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২২ মে আসামিরা শামীমের রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গ্যারেজ ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যান। এরপর শামীম রেজাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নেওয়ার পর এসআই নেয়ামত উল্লাহ তাকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
বাদীর অভিযোগ, শামীম রেজা ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহ দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শামীমের পরিবার ইতোমধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা প্রদান করেছে। গত ১০ জুন শামীমকে গ্রেপ্তার করার পর রিমান্ডে নিয়ে নেয়ামত উল্লাহ শামীমের স্ত্রীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় শামীমকে শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় দুটি আইফোন নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ১৪ জুন বসুন্ধরার একটি দোকান থেকে ফোন দুটি পরিবর্তন করে তিনি নিজের নামে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ওয়ার টেরাবাইট নিয়ে নেন।
সুরাইয়া বেগম আরও জানান, কারাগারে ছেলের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নেয়ামত উল্লাহ শামীমের ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি তিনটি মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও টাকা ও আংটি রেখে দেন। এছাড়া কৌশলে শামীমের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে বিভিন্ন অজুহাতে আরও ৭৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি শামীমের বাড়িতে গিয়ে আগের দাবিকৃত সেই ৩৮ লাখ টাকা দাবি করেন। সম্প্রতি সাভার মডেল থানার এই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে আসে।

















