তীব্র দাবদাহের মাঝে সারা দেশে লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতির অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঢাকার বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বর্তমানে কয়লা ও গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকট ঘনীভূত হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়া। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপ সাধারণ সময়ে পিক আওয়ারে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও, গত রবিবার বিকালে মাত্র ৮১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পিডিবিকে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের কেন্দ্রগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও কয়লা সংকটে উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে কম। বিশেষ করে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় মাত্র ৭১০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে। একইভাবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট এবং এসএস পাওয়ারের দুটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাবও বিদ্যুৎ খাতে প্রকট। দেশে বিদ্যুৎ খাতের দৈনিক চাহিদা ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। এতে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত রবিবার বিকেলে এসব কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫৮৯ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে, যদিও এদের ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৫ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো।
গ্যাস সংকটের পেছনে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডকে দায়ী করা হচ্ছে। ২১ জুলাই থেকে প্রতিদিন ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় দেখা দেয়। যদিও টার্মিনাল মেরামতের পর ৫ আগস্ট রাতে আংশিক সরবরাহ শুরু হয়েছে, কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুটি টার্মিনাল থেকে ৭৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে, যা আগের ১১০ কোটি ঘনফুটের তুলনায় অনেক কম।

















