অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে ছোটার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওতে দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা খাইয়ে দিয়ে দেশজুড়ে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের রূপরেখা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা দূর করতে টিকাদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সহজে গ্রহণযোগ্য ওরাল বা মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদের প্রতিটি মানুষের কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকাদানকে একটি কার্যকর ‘সামাজিক আন্দোলনে’ রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত আরও উল্লেখ করেন, শুধু টিকাই যথেষ্ট নয়; কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে পান করা, রান্না ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

















