কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. জজ মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত জজ মিয়া কুলিয়ারচরের ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এমপির অনুমোদনে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২০ আগস্ট সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলীয় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে জজ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া দলের সকল নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৩ আগস্ট। এদিন উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আলীনগর পূর্ব পাড়া গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ রয়েছে, মৃত আ. গফুরের ছেলে ৫৫ বছর বয়সী জজ মিয়া শিশুটিকে তার নিজ বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড় সংলগ্ন ফারুক মিয়ার জমিতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির মুখে গামছা পেঁচিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জজ মিয়াকে আটক করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিযোগ আছে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন। ওই দিন রাতেই সালিশ বসিয়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার এই অনৈতিক প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। পরদিন তারা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়, যার মামলা নম্বর ১০। ঘটনার দুই দিন পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

















