নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের গোরোনিও স্থানীয় সরকার এলাকার গোরাউয়ের কাছে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ন্যাশনাল ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটির (এনআইডব্লিউএ) স্থানীয় ব্যবস্থাপক আবদুলকাদির ইউসুফ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং তা এখনও চলমান। তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ জন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি কমিউনিটি মসজিদের প্রাঙ্গণে তিনি ৫০টি মরদেহ দেখেছেন, যেগুলোর অনেকগুলোই ঐতিহ্যবাহী কাপড় ও মাদুরে মোড়ানো ছিল। বৃহস্পতিবারই এসব মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এক বাসিন্দার দাবি, ধান কাটার জন্য জমির মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার সময় নৌকাটিতে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন। তবে অন্য এক বাসিন্দার ভাষ্যমতে, নৌকাটিতে ৫৭ জন যাত্রী ছিলেন। সোকোতো রাজ্যের আইনসভার সদস্য নাসিরু আদামু জানিয়েছেন, নৌকায় থাকা যাত্রীদের অধিকাংশই ছিল ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শরহাবিলু কিলিয়া জানিয়েছেন, তারা প্রাথমিকভাবে ৪৬ জনকে দাফন করেছিলেন, পরবর্তীতে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩-তে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারিভাবে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের পরিচালক মুস্তাফা উমর জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের দিকে যাত্রা করেছেন এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য যে, নাইজেরিয়ার নদী ও জলপথে নৌকাডুবির ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা বিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়োবে রাজ্যে একটি ফুটো নৌকা ডুবে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

















