দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে প্রায় ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাজারমূল্যের সাপের বিষ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি যৌথ অভিযানিক দল। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন চিরিরবন্দরের দামুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর সদরের ছোট গুড়গোলা গ্রামের মো. সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), ফুলবাড়ীর তেঁতুলিয়া গ্রামের মো. আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুরের কৃন্দনহাট গ্রামের উজ্জ্বল আলী (৫৪)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিনাজপুর ৪২ বিজিবি, র্যাব-১৩ দিনাজপুর ক্যাম্প এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দলটি অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি কাচের জারে সংরক্ষিত প্রায় ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। বিষের পাশাপাশি একটি প্রাইভেটকার, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন এবং ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল ও বিষের মোট সিজার মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য। চক্রটি অতীতেও বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। জব্দ করা বিষটিও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে বিজিবি ধারণা করছে। অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারকৃত মালামালসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, জব্দ করা নমুনার সত্যতা নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উদ্ধারকৃত নমুনাটি প্রকৃত সাপের বিষ।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বন্যপ্রাণীজাত পণ্য ও মূল্যবান সম্পদসহ যেকোনো অবৈধ দ্রব্য পাচার রোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

















