চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ৫৮টি গ্রামীণ সড়ক ও ৬০টি সেতু-কালভার্ট ভেঙে সম্পূর্ণ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। বন্যা ও বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর পুরো উপজেলার গ্রামীণ ও প্রধান যোগাযোগব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয়কর অবস্থা ফুটে উঠেছে।
সরল, কাথরিয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকুপ, পৌরসভার জলদী, পুইছড়ি, নাপোড়া, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর কার্পেটিং ও ইট উঠে গিয়ে ধুয়ে-মুছে গেছে। মাটির সড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সেগুলো চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বাঁশখালীর এমন কোনো সড়ক নেই যা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এছাড়া উপজেলার একমাত্র প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কগুলোর বর্তমান বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ইব্রাহিম সিকদার জানিয়েছেন, বশিরউল্লাহ বাজার হতে গাজীরপাড়া সংযোগ সড়ক, মাইজপাড়া আলী আকবর চৌধুরী সড়কের অবশিষ্ট অংশ এবং মাইজপাড়া আলী আকবর সড়ক থেকে হেদায়েত আলিপাড়া সংযোগ সড়ক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে এসব পথে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি জানান, এখানকার অধিকাংশ রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নষ্ট হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খানখানাবাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের পাশাপাশি বন্যায় গ্রামীণ অবকাঠামো তছনছ হয়ে গেছে। এছাড়া ছনুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমীন ছানুবী জানান, মধুখালী, ছোট ছনুয়া ও খুদুকখালীর অধিকাংশ রাস্তা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনির জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার ১০৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সড়ক ৫৮টি এবং ব্রিজ-কালভার্ট ৬০টি। এছাড়া সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী দিদারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের আওতাধীন ছয় কিলোমিটার সড়ক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করার জন্য উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ও সওজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

















