নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্তারুজ্জামান নেত্রকোনা আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। এর আগে গত ২৪ আগস্ট পুলিশের হাতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পৌঁছায়। প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুক্তভোগী ওই শিশুর জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা মদনের কাইটাল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০)।
মামলা ও চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমানউল্লাহ সাগর তার প্রতিষ্ঠানের ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে শিশুটি বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখে গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকরা শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবার ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেয় এবং টাকার বিনিময়ে আপস-রফার চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আমানউল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াসহ দুজনকে আসামি করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরও আসামি সাগর ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ৫ মে ফেসবুক লাইভে এসে সাগর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। এর পরদিন ৬ মে ভোরে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মদন থানায় হস্তান্তর করে। তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভুক্তভোগী শিশুটির নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সিলেটের একটি সেফহোমে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ২ জুলাই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। এরপর ২৮ জুলাই সিআইডির প্রতিনিধি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়। মদন থানার ওসি সালাহ উদ্দিন করীম জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের সত্যতা ও পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে। চার্জশিটে চারজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে এবং আমানউল্লাহ সাগরের ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

















