চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের এক আতঙ্কের নাম মোবারক হোসেন ওরফে গলাকাটা মোবারক। প্রকাশ্য রাস্তায় দুই হাতে দুটি পিস্তল নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে বীরদর্পে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় বারবার উঠে এলেও তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে গত বুধবার ফটিকছড়ি এলাকা থেকে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন তিনি, পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও চারটি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোবারক গ্রেপ্তারের সময় যে পিস্তলটি ব্যবহার করেছেন, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। নিজেকে নিরাপদ রাখতে তিনি সবসময় এসএমজি (সাব মেশিনগান) সঙ্গে রাখতেন এবং সেটি নিয়েই ঘুমাতেন। বর্তমানে সেই এসএমজিটি পলাতক সন্ত্রাসী রায়হানের কাছে রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোবারক। গত দুই বছরে চট্টগ্রামে লুট হওয়া ৯৪৪টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১৪৮টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, গত দুই বছরে ৭৯৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ হাজার ৮৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের হাছি চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা মোবারকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। রংমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মোবারক ২০১৪ সালে বাবু নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার পর ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে পরিচিতি পান। পুলিশ জানায়, শিবির ক্যাডার নাছির উদ্দিনের মাধ্যমে অপরাধজগতে আসা মোবারক পরবর্তীতে আবু তৈয়ব ও বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ডেভিড ইমনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, মোবারক কেবল হত্যাকাণ্ডই নয়, চাঁদা না পেলে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়িতে গুলি চালানোয় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। রাউজানের যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাসহ অন্তত সাতটি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দুই হাতে অস্ত্র চালিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে। অপরাধ করার পর তিনি ফটিকছড়ি ও রাউজানের দুর্গম পাহাড়ে গা ঢাকা দিতেন। পুলিশ বলছে, পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং তার দুই স্ত্রী এ কাজে সহায়তা করতেন। কাঞ্চননগরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের আশ্রয়-প্রশ্রয়েও তিনি থাকতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে থাকা মোবারক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

















