হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকা প্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ। আদালত সিআর ৫২/২০২৬ নম্বর মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০) ও কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ আগস্ট ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় বাদীর ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা কামালসহ আসামিরা সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
প্রবাসী শাহিন মিয়ার ভাষ্যমতে, জমিটির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশ যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার শর্তে তিনি কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার এবং পরে ১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এরপরও সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে কামাল নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন এবং নতুন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল। তিনি জানান, জমিটি বিরোধপূর্ণ এবং ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। এক ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার দাবি, চাঁদা দাবির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রথমে থানায় গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি, তাই আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

















