আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দেশে সংঘটিত প্রতিটি গুমের ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে ভিন্নমতের মানুষের বিরুদ্ধে নির্মম এই পথ বেছে নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের লক্ষ্যে গুম ও অপহরণের অমানবিক পথ অবলম্বন করেছিল। সে সময় ভুক্তভোগীদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে সরকার পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ আর গুম কিংবা অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, গুম শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ফলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষ আজও নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’-এর আলোকে অপরাধী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

















