স্তন ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়া নারীদের জন্য একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তথ্য সামনে এসেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যানসারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যাদের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গিয়েছিল, তাদের বেশিরভাগেরই সম্ভবত আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হবে না। এই ফলাফল হাজারো ক্যানসার জয়ী নারীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় চারটি হাসপাতালের ৯০ জন নারী অংশ নেন, যাদের বয়স মূলত ৪০ থেকে ৫০ বছরের কোঠায়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শার্লট ম্যানিস্টির নেতৃত্বে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি ‘হার্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার একটি নির্দিষ্ট ধাপ পার হওয়ার পর অংশগ্রহণকারী নারীদের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। গবেষকরা লক্ষ্য করেন, যারা হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবন বন্ধ করেছিলেন, তাদের ৯৮ শতাংশের ক্ষেত্রে এক বছর পরও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। শুধুমাত্র একজন অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে রক্ত পাম্প করার সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দেয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩৩ বছর বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হওয়া লুসি শেফার্ড জানান, তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ক্যানসার জয়ের পর হৃদযন্ত্রের ওষুধ চালিয়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তাকে ভোগাতো। তবে এই গবেষণায় যুক্ত হয়ে ওষুধ বন্ধ করার সুযোগ পাওয়ায় তার জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। তিনি বর্তমানে হরমোন থেরাপি নিলেও আগের মতো ভয়ের মধ্যে নেই।
অধ্যাপক শার্লট ম্যানিস্টি বলেন, আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসায় এটি একটি বড় সাফল্য। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ওষুধ বন্ধ করা যে নিরাপদ, তা এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হয়েছে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ এই ফলাফলকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী নারীদের আগামী পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে যাতে তাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি নিশ্চিত করা যায়।

















