জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। রোববার এই মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন এই দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। গত ২৪ মে আদালত লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন। এরপর ২২ জুন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা মৃতদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেন। ওই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। সেই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। সিআইডি তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বাদীপক্ষ সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন আবেদন করেন। মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, মৃত্যুর দিন সালমান শাহর শয়নকক্ষে তাকে নিথর পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সে সময় তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ লক্ষ্য করেছিলেন তারা। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

















