রাশিয়ার একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যাপক অসন্তোষের আবহে দুই দিনের জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে চীন ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রায় সব দেশই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভের উপস্থিতি ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, বৈঠকে রাশিয়ার মন্ত্রীর উপস্থিতি আলোচনায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। তিনি বলেন, প্রায় সব দেশ সভাপতির বিবৃতিতে সম্মত হওয়ায় এটিই প্রমাণিত হয় যে রাশিয়ার উপস্থিতি আলোচনার গতিপ্রকৃতি বদলাতে পারেনি। বেসেন্ট আরও জানান, তিনি যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তিনি কোনো নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই। তবে কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন এএফপিকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার উপস্থিতিতে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস মন্তব্য করেছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন ও বেসামরিক মানুষ হত্যারত একটি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। এর আগে সম্মেলনের ‘ফ্যামিলি ফটো’ সেশনে ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিবাদের মুখে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী সিলুয়ানভকে রাখা হয়নি। এমনকি চ্যাপেল হিলে আয়োজিত উদ্ভাবন বিষয়ক বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের দুটি আলাদা গ্রুপ ফটো তোলা হয়, যাতে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার প্রতিনিধিদল থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে ‘অবাধ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে সভাপতির বিবৃতিতে, যে অংশে চীন আপত্তি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই নৌপথটি অনেকটাই অবরুদ্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে জার্মানি গত মাসে তাদের একটি বিমানবন্দরে ড্রোনের মাধ্যমে কথিত ‘হাইব্রিড হামলা’ চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে এবং পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে জি-২০’র সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে মিত্রদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

















