বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ জরুরি বিধিমালার আওতায় যৌথবাহিনী তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে দাবি করে আসছে বিএনপি।
বিএনপির অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে তারেক রহমানের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। কারাবন্দি অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সে সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও ছিলেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তারেক রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তাকে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই নয়, বরং দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছিল। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা দেশে-বিদেশে অনুসন্ধান চালিয়েও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রায় ৮৩টি মামলা হয়েছিল, যার নিষ্পত্তি হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর। প্রায় দেড় যুগ পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’
কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, তারেক রহমানকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছিল, যার চিহ্ন তিনি এখনো বহন করছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই তিক্ত স্মৃতি মনে রাখতে চান না। অতীতের অভিজ্ঞতার চেয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

















