বিশ্ব

কাতারে বোমা হামলার কথা দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করলেন নেতানিয়াহু

প্রতিবেদক
সব খবর

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করেছেন। প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৫৫। শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নেতানিয়াহুর দাবি, গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানে কাতারের কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি। আমি তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি। যুদ্ধের সময় তাদের আক্রমণ করেছি। তারাও আমাকে পাল্টা আক্রমণ করেছে।’

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইলের চালানো সেই হামলার এক বছর পূর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে এই মন্তব্য করলেন নেতানিয়াহু। তৎকালীন সেই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, হামলার সময় দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা কাতারে ২০১২ সাল থেকে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। কাতারের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তারা এই কার্যালয় স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল।

তৎকালীন ওই হামলার পর ইরান ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ তীব্র নিন্দা জানায়। জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের শীর্ষ নেতারা কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে দেশটিতে সফর করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই ঘটনাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ঘটনার মাস শেষ হওয়ার দিকে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ইসরাইলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে তিনি গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানো প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। আই২৪নিউজকে তিনি জানান, মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশে ইসরাইলের সহযোগিতায় মানবিক সহায়তার নামে কাতারের কোটি কোটি ডলার গাজায় পাঠানো হয়েছিল। নেতানিয়াহুর দাবি, এই অর্থ গাজায় আসা মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই অর্থ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।

কাতার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত বছরের দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের সব সহায়তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত ছিল।

সব খবর