অপরাধ

নবীনগরে তিতাস নদী ভরাট করে দখলের অভিযোগ

প্রতিবেদক
সব খবর

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে তিতাস নদী ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল’-এর মালিক ফরিদ মিয়া রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে এই নদী ভরাটের কাজ চালাচ্ছেন। গত শনিবার পানির নিচ থেকে বালু জেগে ওঠার বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসে। জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকেই ফরিদ মিয়া এই ভরাট কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। কয়েক বছর বিরতির পর সম্প্রতি ফের তা শুরু হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তিতাস নদীটি অত্র অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নৌপথ। এ নদী দিয়ে এখনো ভৈরব ও নরসিংদীতে প্রতিদিন একাধিক লঞ্চ, ১২০ শতাধিক যাত্রীবাহী নৌকা ও ১৮০ স্পিডবোট চলাচলের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্যবাহী কার্গো যাতায়াত করে। বিশেষ করে নবীনগর উপজেলা খাদ্য গুদামের ধান, চাল, গম এবং সদর বাজারের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল এই পথেই পরিবাহিত হয়। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং নৌপথ’ প্রকল্পের আওতায় ২৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নবীনগর থেকে কসবার কুটি বাজার পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার নৌপথ খনন করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড’।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পলি জমে নদীটি এমনিতেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে, তার ওপর এভাবে বালু ভরাট চলতে থাকলে শুষ্ক মৌসুমে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এবং তীব্র পানি সংকট দেখা দেবে। এর ফলে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় মারাত্মক জীবিকা সংকটে পড়বে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধভাবে ভরাট করা বালু অপসারণ, নদীর সঠিক সীমানা নির্ধারণ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আহমেদ হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি আমার ক্রয়কৃত জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করছি। একসময় এই জায়গা নদীর থাকলেও বর্তমানে ভূমি অফিসে শ্রেণিবদলের মাধ্যমে নাল হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, নদী দখল কিংবা ভরাট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। তিতাস নদীর সংশ্লিষ্ট স্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।

সব খবর