দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ, নতুন গাড়ি কেনা এবং প্রশিক্ষণসহ বেশ কিছু খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনার আওতায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থাকবে। পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় থাকা থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে সব ধরনের ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও স্থগিত করা হয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন অথবা নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন কেনা যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ছাড়া অন্য সব নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক হতে হবে। এছাড়া উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যানবাহন কেনা বন্ধ থাকলেও, পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা সম্ভব।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনা এবং বিদেশি অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশ অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন বা কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু জটিল বা বাধ্যতামূলক পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিচালন বাজেটে নতুন আবাসিক বা অনাবাসিক ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান কোনো প্রকল্পের কাজ অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনে ব্যয় করা যাবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

















