নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন বা ছয় মাস পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সব ধরনের রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি ও জনভোগান্তি কমবে এবং শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই বৈঠকে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের যে সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব ছিল, তা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিগারেটের স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিম্ন স্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য রোধ করা এবং রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও প্রচারসংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। হংকং বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ প্রয়োজনে তা সংশোধন করতে পারবে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছে সরকার।

















