বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাই মারা গেছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্য ও বিএনপির মিডিয়া সেল।
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তার বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী জামিলা খাতুন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, পরে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
আব্দুল হাইয়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল বর্ণাঢ্য। ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে একবার এবং বিলুপ্ত মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে তিনবারসহ মোট চারবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
মরহুমের জানাজা সম্পর্কে পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল ৪টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা, সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
















