আদালতের রায়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে এবার এই করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানার স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন এবং জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত মার্চ মাসে শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসক করার একটি প্রস্তাব তৈরি করা হলেও তখন কোনো আদেশ জারি হয়নি। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শাহাদাত হোসেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বিজয়ী হলেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন তিনি। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীন রেজাউল করিম চৌধুরীর জয়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ৮ অক্টোবর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। গত ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের কাছে শপথ গ্রহণ করেন শাহাদাত হোসেন। এদিকে, নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র পদে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেই পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। শাহাদাত হোসেন আদালতের রায়ে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বলে দাবি করলেও, স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে এ বিষয়ে কোনো আলাদা নির্দেশনা ছিল না। শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতার মধ্যেই তাঁকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
তখন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহাদাত হোসেনের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয় ৫২ হাজার ৪৮৯।নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত হোসেন।

















