দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বায়ুদূষণকে চিহ্নিত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের একটি গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিটের পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের প্রভাবে দেশের ছয়টি প্রধান শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন। গবেষণার ফলাফল তেহরানভিত্তিক ‘Pollution’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুধু পিএম ২.৫ দূষণের কারণে বছরে আনুমানিক ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে হৃদরোগে ৩৭ হাজার ৫৯১ জন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৮১১ জন প্রাণ হারাচ্ছেন।
শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অকালমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ঢাকায়, যেখানে এই সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জন। এরপর ক্রমান্বয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২ জন), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭ জন), খুলনা (২ হাজার ৬২৫ জন), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮ জন) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫ জন)। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই ছয়টি শহরে দূষণজনিত মৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে ঢাকা, যেখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু বায়ুদূষণের সাথে সম্পর্কিত।
গবেষণায় আরও জানানো হয়, এই দূষণের ফলে শুধু প্রাণহানিই নয়, বরং কর্মক্ষমতা হ্রাস, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বছরে দেশের প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বায়ুদূষণকে এতদিন কেবল পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও এটি এখন জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুমান নির্দেশিকা বাস্তবায়ন, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নগর বায়ু ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং সমন্বিত পরিবেশনীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

















