প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫৯
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের কারখানায় রোববার সন্ধ্যায় এক আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের এই সংগঠনটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার বিজিএমইএর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনটি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। এছাড়াও, দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ও আহতদের দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, “এই সংকটের মুহূর্তে আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার।”
বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ আরও জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই বিজিএমইএর একটি বিশেষ ক্রাইসিস রেসপন্স টিম ও প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। এই দুর্ঘটনায় কোনো নিয়মিত পোশাক শ্রমিক আহত হয়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনায় আহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএর একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। আহতদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার বিষয়ে বিজিএমইএ প্রীতি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে।
ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে, বিজিএমইএ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং সিলিন্ডার বা গ্যাস লরি খালাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ত্রুটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করছে। পাশাপাশি, দেশের সব তৈরি পোশাক কারখানায় কেমিক্যাল, গ্যাস সিলিন্ডার এবং দাহ্য পদার্থ খালাস, হ্যান্ডলিং এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিজিএমইএর পক্ষ থেকে অতি দ্রুত একটি জরুরি সার্কুলার জারি করা হচ্ছে।
বিজিএমইএ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, যেকোনো শিল্প দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের জীবনরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত সাড়া ও অকুতোভয় উদ্ধার তৎপরতার জন্য বিজিএমইএ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

















