পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির অন্তত ৩৮ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এই ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জিয়ারত, বেলা-উইন্ডার, খারান ও দালবান্দিনে পরিচালিত পাল্টা অভিযানে মোট ৫৪ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। তবে বেলুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্যের নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে ৬ জুলাই গভীর রাতে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম প্রকল্পের পাম্পিং স্টেশন নম্বর-৩ সংলগ্ন একটি পুলিশ চৌকিতে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই বহুমুখী হামলা চালায়। পাক সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র হামলাকারীরা বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করে পুলিশ চৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এতে মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার দুই স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর এক হেড কনস্টেবলসহ নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করতে সক্ষম হলেও, অবশিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জিম্মি করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কোরের উদ্ধার অভিযানের সময় জিম্মি ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, জিম্মিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে উদ্ধারকারী দল ভারী অস্ত্র বা বিমান হামলা চালায়নি। এই উদ্ধার অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়, যা জিয়ারত এলাকায় মোট ২৬ জন নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে। এই ঘটনার পর বেলুচিস্তান সরকার জিয়ারতের পুলিশ সুপারকে বরখাস্ত করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
একই সময়ে বেলুচিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকায় এন-২৫ মহাসড়কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলা চালানো হয়। আইএসপিআর দাবি করেছে, বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলায় একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ ১১ জন সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে এবং পাল্টা অভিযানে ১৪ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে বিএলএ দাবি করেছে, তারা ১৭ জন সেনাকে হত্যা করেছে।
এই ধারাবাহিক হামলার জন্য আইএসপিআর প্রধান আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এবং আফগান মাটি ব্যবহার করে টিটিপি এই হামলা চালাচ্ছে। যদিও ভারত ও আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সমস্যাগুলো এই সহিংসতার পেছনে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

















