স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই ও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য রাখার সময় এই দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি এলডিসি দেশ উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই দেশগুলোর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন বহিরাগত অভিঘাতের কারণে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত সময় ও সহায়তার প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও নেপাল জাতিসংঘের কাছে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রস্তুতির এই পর্ব ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করার আবেদন করা হয়েছে। ড. তিতুমীর স্পষ্ট করেন যে, এই বাড়তি সময় কোনো বিলম্ব নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন এলডিসিগুলোর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির সহনশীলতা জোরদার করা সম্ভব। আগামী বছর কাতারে অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই বৈঠকে রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে এমন বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে, যা উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে। সবশেষে তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর সফল উত্তরণ কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

















