বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) তত্ত্বাবধানে হাওরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও জীবিকা নিয়ে পরিচালিত ২২টি গবেষণা প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংকস এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে সিটি ব্যাংক।
তিন বছর মেয়াদি এসব গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি উপ-প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে এই গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এতে সিটি ব্যাংক চার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে।
গবেষণায় বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো অংশ নিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে গবেষণার সুফল পৌঁছে দিতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এসবের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও গবেষণার ভিত্তিতে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি হাওরাঞ্চলের কৃষিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার মানসিকতা নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলি। তিনি গবেষণার ফলাফলগুলো সাধারণ মানুষের উপকারে পত্রিকায় তুলে ধরার জন্য গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান এবং সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাশরুর আরেফিন উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. হাম্মাদুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি এবং কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের পাশাপাশি গবেষকদের মাঝে স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

















