৪৭তম বিসিএসের টেকনিক্যাল ক্যাডারের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. মহবুবউজ্জামান ভবনের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ক্যাডারে ভাইভায় অংশ নেওয়া ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও সুপারিশপ্রাপ্ত না হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় স্বতন্ত্র কোড চালু করা, প্রাণিসম্পদ খাতের নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত করে জটিলতা নিরসন, ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভাতা এমবিবিএস ইন্টার্নদের সমপর্যায়ে উন্নীত করা এবং ৪৭তম বিসিএসের ভাইভায় অংশগ্রহণকারী ১৮ জন শিক্ষার্থীর কেউ সুপারিশ না পাওয়ার কারণ তদন্ত করা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় ডিন জানান, কম্বাইন্ড কোড অন্তর্ভুক্তির জন্য পিএসসিতে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। এছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধি এবং টিএ ও ডিএ চালুর বিষয়েও উপাচার্য একমত পোষণ করেছেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কম্বাইন্ড ডিগ্রিতে বেশি ক্রেডিট সম্পন্ন করায় তারা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তবে ক্লাস বর্জন করলে সেশনজটের ঝুঁকি বাড়বে।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, অনুষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষককে তাদের পাশে না পেয়ে তারা হতাশ। তারা শিক্ষকদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানান। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় কোনো কারিগরি জটিলতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে পিএসসির কাছে আবেদন করেছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদেরও পৃথক আবেদন করতে বলা হয়েছে।

















