বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ৬ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। বুধবার দুপুরে নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল তাদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানায়, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকটি মাছ ধরার নৌকার জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা পেরিয়ে মিয়ানমারের সীমানায় ঢুকে পড়লে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে। এরপর তাদের মিয়ানমারের ভেতরে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা কিংবা কারাগারে আটকে রাখা হয়। আটক জেলেদের মানবিক বিবেচনায় দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখে। এর ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
জেটিঘাটে আনার পর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই শেষে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট আটক জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় বিজিবি কাজ করে যাবে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আরাকান আর্মি কর্তৃক মোট ৪৩৪ জন আটক হয়েছে, যার মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি ও ২১২ জন রোহিঙ্গা। এখন পর্যন্ত ৩৪৮ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি ও ১৯১ জন রোহিঙ্গা। বর্তমানে ৮৬ জন এখনো আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন, যার মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি এবং ২১ জন রোহিঙ্গা।

















