কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে গত ১৯ আগস্ট ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে। দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনরা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, আফসানার বাবা আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু। অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে এবং অপর বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ভারতেই সৎকার করা হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানান, কলকাতা থেকে রওনা হওয়ার পর দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে মরদেহগুলো বেনাপোলে পৌঁছাতে পারে। তবে সঠিক সময়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি আরও বলেন, মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
নিহত ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবুর ভাই মোহাম্মাদ আলী শুক্রবার বিকেলে বেনাপোলে পৌঁছান। অন্যদিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাঁর শ্যালক ফিরোজ হাসান কলকাতায় অবস্থান করছেন। কুষ্টিয়ার স্বজনেরাও বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষায় আছেন। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর ছেলে স্বর্ণাশীষের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে এবং আফসানা শারমীন ও আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতিতে দাফন করা হবে। নয় বছর আগে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দেবাশীষ ও আফসানার ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে বেঁচে আছে।

















