মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা আরও ভয়াবহ, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে। বিশেষ করে আমন মৌসুমে সেচনির্ভর কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহম্মদ মুশার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিষয়টি দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিন-রাত মিলিয়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা জানান, আমন ধান চাষের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া শহরের আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাবু জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম জানান, বিদ্যুতের অভাবে ক্রেতারা গরমে বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না, ফলে ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ১০ থেকে ১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণেই এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে, যা আমন চাষের চাহিদা মেটাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা সরবরাহের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাপপ্রবাহজনিত বাড়তি চাহিদা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মিলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন মৌসুমে সেচে ব্যাঘাত ঘটলে ধানের চারা শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা খাদ্য উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। এছাড়া নবাব অটো রাইস মিল ও হক অটো রাইস মিলের মালিকরা জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে এবং চাল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জেলার সার্বিক উন্নয়নে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় চাহিদা ৪০/৪৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০/১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

















