ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যদি আগামী শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে এই সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে এই আন্দোলন শুরু করা হবে। পরবর্তীতে এই কর্মসূচি ভারতের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভোটার তালিকায় জালিয়াতিসংক্রান্ত সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের জের ধরে সিজেপি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। গত বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, গ্রেপ্তার এবং তার অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকার পরিবর্তনের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই বিজেপিকে সুবিধা দিতে লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের জেরে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশটির বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ হিসেবে অভিহিত করলে সংগঠনটি ব্যঙ্গাত্মকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিজেপির বিভিন্ন আন্দোলন মোদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যার প্রেক্ষিতে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
এদিকে ভোটার তালিকায় জালিয়াতিসংক্রান্ত সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। বিরোধীদের অভিযোগ, মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিতেই ওই তালিকায় কারচুপি করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা জ্ঞানেশ কুমারের কাছে প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার।

















