ইউরোপের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, চলতি গ্রীষ্মে ভূমধ্যসাগরের তাপমাত্রা সরাসরি প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে।
সুইজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক পদার্থবিদ এবং গবেষণার সহলেখক থমাস ফ্রোলিশার জানান, আয়ারল্যান্ডের উপকূলের আটলান্টিক থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ইউরোপের সমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো অব্যাহত রাখাই এই উষ্ণতা বৃদ্ধির মূল কারণ।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) গ্রুপের বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমধ্যসাগরের তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি এবং পশ্চিম ইউরোপের সমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
তারা পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্য ও জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাস সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
সংস্থাটির মতে, এর ফলে সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি শীতল পানির সন্ধানে উত্তর দিকে সরে যাচ্ছে, যা খাদ্যশৃঙ্খলসহ উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ খামারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি উপকূলীয় এলাকায় আর্দ্রতা বাড়িয়ে চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
সামুদ্রিক পরিবেশবিজ্ঞানী জন ব্রুনো সতর্ক করে বলেছেন, সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধিও অনেক জীবের সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রবাল প্রাচীরের ক্ষেত্রে মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিই প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে কিছু প্রজাতি উষ্ণ পরিবেশ থেকে লাভবান হলেও বাস্তুসংস্থানের এই পুনর্গঠন সামগ্রিকভাবে পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এদিকে কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য বলছে, জুলাই মাসে বিশ্বের সমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ডব্লিউডব্লিউএ জানিয়েছে, জুলাইয়ের সবচেয়ে উষ্ণ দুই সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
চলতি বছর বিসকে উপসাগর ও আইবেরীয় উপকূলের ৯০ শতাংশ এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের ৮০ শতাংশ এলাকায় সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, মানবসৃষ্ট বর্তমান ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা না থাকলে এসব এলাকার মাত্র ৪০ শতাংশ অঞ্চলে এই তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা ছিল।
মেনুথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও সহলেখক ক্লেয়ার বার্গিন বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে উষ্ণ পানি সাঁতারের জন্য আকর্ষণীয় মনে হলেও সমুদ্রের তলদেশে সামুদ্রিক জীবনের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।

















