নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যায় জর্জরিত উপকূলীয় এলাকার মানুষ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
প্রকল্পটি অনুমোদনের পর স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কোম্পানীগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকার নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে এটি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করছেন।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে থাকা ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর কোম্পানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞা এলাকায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন রেগুলেটর নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার ধারাবাহিকতায় এবার ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেল।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের পাশাপাশি ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বসুরহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন বলেন, নদীভাঙনে কোম্পানীগঞ্জের হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকায় বসবাস ও কৃষিকাজের পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে এবং এতে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে। কবিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন, নদীভাঙনের কারণে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা আবার চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মুছাপুর এলাকায় পর্যটন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্প অনুমোদনের পর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে বসুরহাটে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদে সেটি কার্যকর রাখার জন্যও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অনিয়ম বা অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান রাজন, বসুরহাট পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক ওবায়দুল হক রাপেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৫৭আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ০০

















