মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়লেও, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটলে ওই অঞ্চলের পুনর্গঠন কার্যক্রমে নতুন কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৭৫ শতাংশই এই অঞ্চলকেন্দ্রিক, যার মধ্যে একক দেশ হিসেবে সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি কর্মী যেতেন। যুদ্ধের কারণে গত সাত মাসে বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের ফলে কিছু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রচুর শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সুবাদে প্রবাসীরা সেখানে নতুন সুযোগ পাবেন।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরাতে সহায়তা করছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। রিয়াদে হামলার পর দূতাবাস কর্মকর্তাদের তৎপরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মতো সমস্যাগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। বর্তমানে সৌদি আরব নিজে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে এই মুহূর্তে আলোচনা করা উপযুক্ত নয়।
নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক কোম্পানি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, তবে ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।
সরকার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মালয়েশিয়ায় শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানান, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও প্রচারের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

















