অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, দেশের বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। গুলশানে নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, চাইলেই কাল সকালে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো বা গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে না, এর জন্য ধৈর্য ও সময়ের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অর্থবছর পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জুলাই–জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল–মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং বর্ষাকালে কাজের অপচয় ও দুর্নীতি কমানো যায়। তিনি জানান, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৫ ফেব্রুয়ারির ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৩ আগস্ট ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া লেনদেনের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা ফেরানো এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং শিল্প উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারার বিষয়গুলো স্বীকার করেছেন তিনি। আমির খসরু বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সময় লাগবে। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার এবং পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার বিষয়টি আধাআধি হওয়ায় তা সমাধানে কাজ চলছে।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগের কমিশন ক্যাসিনোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, কিন্তু নতুন কমিশন গঠনের পর বাজারে আস্থা ফিরছে। বৃহৎ অর্থায়নের উৎস হিসেবে শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকগুলোকে চলতি মূলধনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো এবং উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান যে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচির আলোচনার বিষয়ে তিনি জানান, জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না এবং সব সংস্কার পর্যায়ক্রমে করা হবে।

















