দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রে শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা উচিত। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা এবং গায়ে রেশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না এবং অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি শিশুদের জ্বরের সময় ডাবের পানি ও শরবতসহ প্রচুর তরল পান করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় শিশুদের ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট এবং পায়ে মোজা পরানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসের প্রকোপ থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ছে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এদিকে আইইডিসিআর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র কীটনাশক প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারকে বড় ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এডিস মশা গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি সক্রিয় এবং এগুলো স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, বারান্দার পাত্র বা জমে থাকা পরিষ্কার পানি এদের প্রজননের আদর্শ জায়গা। এই মশা সূর্যোদয়ের প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ডেনভ-৩ সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

















