রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যার ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন এবং আয়ুশ জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, তিনি সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২৬ মিনিটে বড় বোন প্রীতিলতা ও ভাগনি আগামীর সঙ্গে ৯ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড কথা বলেছিলেন। এরপর শুক্রবার সারাদিন পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ হয় তাঁর। রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বোনের মুঠোফোন থেকে আবার কল এসেছিল। তিনি রাত পৌনে ৯টার দিকে নগরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসা থেকে বোনের বাসায় গিয়ে মূল গেটে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানায়, ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার খোলা থাকলেও কোনো কিছু ভাঙার চিহ্ন ছিল না, বরং চাবি দিয়ে সেগুলো খোলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাটের পাশে আয়ুশের মরদেহ পাওয়া যায়, যার গলায় কাপড় প্যাঁচানো ছিল। সিঁড়িতে মা ও মেয়ের গলায় দড়ি এবং তৃতীয় তলার ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় গামছা প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রংপুর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, সবার মুখ কিছুটা ঝলসানো থাকায় রাসায়নিক কোনো পদার্থ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। সিআইডির পরিদর্শক আবু হাসান কবির জানান, জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনা রহস্যজনক। প্রতিবেশী ও স্বজনদের দাবি, অত্যন্ত সহজ-সরল এই পরিবারটির কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। গণপতি চক্রবর্তী ২০১০ সালে মাছুয়াপাড়া গ্রামে ৬ শতাংশ জমি কেনেন এবং তিন বছর আগে নিজের জমিতে এই বাড়িটি নির্মাণ শুরু করেছিলেন। ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

















