স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে ফ্রান্সের। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির আগে তাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে হবে, যা হলো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলটি, যে ম্যাচটি বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হলেও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করাটাই এখন ফরাসিদের মূল লক্ষ্য। কোচ দিদিয়ের দেশমের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান গুঞ্জনের কারণে এই ম্যাচটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপের পর তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তাই বিদায়ের আগে জয় দিয়ে নিজের অধ্যায়ের ইতি টানার চেষ্টা করবেন তিনি। এছাড়া ঐতিহাসিক দিক থেকেও ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ; ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এই প্রথম তারা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অংশ নিতে যাচ্ছে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে অনেকের আগ্রহ কম থাকলেও, ক্রীড়াগত ও আর্থিক—উভয় দিক থেকেই এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জয়ী দল পুরস্কার হিসেবে পাবে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৫২ কোটি টাকা, আর চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাত্র একটি ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ২০ লাখ ডলারের পার্থক্য। এছাড়া এই ম্যাচের ফলাফল ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও প্রভাব ফেলবে, কারণ নকআউট পর্বে জয়ী হলে অতিরিক্ত রেটিং পয়েন্ট পাওয়া যায়। এই পয়েন্ট ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টে সিডিং ও ড্রয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও, তৃতীয় সেরা দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করতে মিয়ামিতে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে এমবাপ্পের ফ্রান্স।

















