বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই ফ্রান্সের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও শেষ চারে ফরাসিদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ মেনে নিতে পারছেন না সাবেক তারকা খেলোয়াড়রা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কিংবদন্তি মিডফিল্ডার প্যাট্রিক ভিয়েরা দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ভিয়েরা ফ্রান্সের ব্যর্থতাকে সম্মিলিত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট একক ফুটবলারের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ নেই। সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে দিদিয়ের দেশমের দল শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে। ভিয়েরার মতে, পুরো ৯০ মিনিটে দলের আক্রমণভাগ কিংবা রক্ষণভাগ—কোনো বিভাগই চেনা ছন্দে ছিল না। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জেতার প্রত্যাশা ছিল সবার, ফলে এই ফলাফলে সবাই হতাশ। এখানে একজন বা দুজন খেলোয়াড় ব্যর্থ হননি, ব্যর্থ হয়েছে পুরো দল। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে যেভাবে লড়াই করা উচিত ছিল, ফরাসি ফুটবলারদের মধ্যে সেই তাড়না ও একাগ্রতা দেখা যায়নি।
দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের চেনা ফর্ম খুঁজে পেতে লড়াই করেছেন এবং সেমিফাইনালেও তিনি নিষ্প্রভ ছিলেন। তবে ভিয়েরা মনে করেন, শুধু এমবাপ্পে নন, ফ্রান্সের প্রথম সারির প্রায় সব খেলোয়াড়ই নিজের নামের প্রতি অবিচার করেছেন। ওলিসে, দেম্বেলে কিংবা মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সেনানীই স্প্যানিশ রক্ষণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। এর ফলে প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করে ফরাসিরা ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায়, যা দ্বিতীয়ার্ধেও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ভিয়েরা স্পেনের চমৎকার ফুটবল শৈলীর প্রশংসা করার পাশাপাশি ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের রণকৌশল নিয়েও পরোক্ষ প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের এমন প্রতিরোধহীন হয়ে পড়া নিয়ে পুরো ফুটবল মহল এখন চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিরোপার এত কাছে এসে এমন ভরাডুবি দলটির আগামী দিনের পরিকল্পনার ওপর বড় ধাক্কা। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনকে দল পুনর্গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

















