ময়মনসিংহের গৌরীপুর বাজার থেকে শালিহর অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটির সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খুঁড়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখায় তাদের ভোগান্তি আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর উপজেলা সদর থেকে শালিহর পর্যন্ত ৪ দশমিক ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব পায় গফরগাঁওয়ের মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৬ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ২৪০ টাকা ২০ পয়সা। কার্যাদেশ অনুযায়ী, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে কাজ শুরু করে ৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে তা সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
সড়কটির বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিন জানান, রাস্তার অবস্থার কারণে অটোরিকশাগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। বৃষ্টি হলে রাস্তা কাদা হয়ে যায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলের উপায় থাকে না। প্রায় ১০ বছর ধরে এই সড়কে অটোরিকশা চালানো মো. আব্দুল লতিফ বলেন, গত তিন বছর ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দে পড়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গাড়ির বিয়ারিং ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, যা চালকদের জন্য বাড়তি আর্থিক ক্ষতির কারণ। যাত্রী ফরিদা জানান, খারাপ রাস্তার কারণে যাতায়াত করতে গিয়ে হাড়গোড় ব্যথার মতো শারীরিক কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
বাড়িয়ালাপাড়ার বাসিন্দা জিয়া এবং গাওগৌরীপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াতের সময় চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এদিকে, কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, গত মে মাসে পাথর আনা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বিটুমিনের দাম বৃদ্ধি এবং সংকট থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে।

















