নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই বাড়তি অর্থের চাহিদা মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকার ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বুধবারের (২৮ অক্টোবর) নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগৃহীত হলে এই মাসে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় এই স্বল্পমেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হয়েছে। সাধারণত সরকার ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ঋণ নিলেও রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ বিলের দ্বারস্থ হয়। তবে নিলামে বিক্রি হওয়া পুরো অর্থ সরকারের নিট ঋণ নয়, কারণ এর একটি বড় অংশ আগের ঋণের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত হয়। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।
সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা ২৬ অক্টোবর বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক খাতে আগস্ট মাস শেষে ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও ঋণের চাহিদা বাড়ায় এই সুদহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম দুই মাসে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার ঘাটতি হওয়ায় সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা বাড়ছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ এ বছরের বাজেটে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে বার্ষিক ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপের সৃষ্টি করতে পারে।
















