সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছে, তাই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো ধরনের অনৈতিক বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হতো, সেই দিন এখন শেষ হয়েছে। সবাইকে সততা ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে নির্বাচনের সময় ডিসি, ইউএনও ও ওসিদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হতো, যা দুর্নীতির মহাঅরণ্য তৈরি করেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে এমন কোনো লেনদেন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের করে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। এর জন্য হাসপাতালের মানোন্নয়ন, রোগীদের জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থা এবং ডাক্তার ও নার্সদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যখাতে ঠিকাদারদের লেনদেন, বদলি বাণিজ্য ও পরিচালক পর্যায়ে ঘুষের যে অভিযোগ ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জকে একটি মাদকমুক্ত মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সন্ত্রাস, জুয়া ও কিশোর অপরাধ দমনে প্রশাসন ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, পুলিশ সুপার গোলাম সারোয়ার আলম, জেলা তথ্য অফিসার নূর হোসেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রওশন আরা এবং জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
ইউএনওকে ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা, থানার পরিধি অনুযায়ী ওসিকে এবং ডিসিকেও বিপুল অর্থ দেওয়া হতো।
এবার একটি নির্বাচন হয়েছে, কেউ কি ১০ টাকা পেয়েছেন?

















