বন্যা পরিস্থিতি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ স্থগিত থাকার পর এ বোর্ডের প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী আবার পরীক্ষার হলে ফিরেছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টায় পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বিকেলে খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের অন্য নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষার্থীরা ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (তত্ত্বীয়) এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীরা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষা দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট এবং পরীক্ষার্থীদের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের আওতায় আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোও স্থগিত ছিল।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর গত ২৩ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরীক্ষা পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেন। বর্তমানে কার্যকর নিয়মিত রুটিন অনুসারেই পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থগিতাদেশের আগে যে পরীক্ষাগুলো হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে। এর আগে গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও দেশের অন্যান্য বোর্ডে পরীক্ষা যথারীতি চলছিল।
চলতি বছর সারা দেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সারা দেশে এই পরীক্ষার জন্য ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

















