হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বাকেই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হলেও প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের পূর্ণ নিশ্চয়তা মিলবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও বিঘ্নিত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ওমান কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিটি দ্রুত খুলে না দিলে ইরানকে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে নৌপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা কিছুটা এগিয়েছে। তবে ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে। বাকেই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কেবল প্রণালির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী আচরণ ও নৌ অবরোধের মতো হুমকিমূলক পদক্ষেপগুলো এখনও বিদ্যমান থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটছে না।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, নতুন এই পথটি কেবল দুই থেকে চার মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে খোলা হতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে নৌচলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি জানাচ্ছে, যেখানে ওমান ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্ক আরোপের বিরোধী। এই প্রস্তাবিত চুক্তির ফলে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

















