ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়ার পর সরকার গঠনের এই প্রক্রিয়ায় আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমর্থনের বিষয়টি জানাবে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে জয়েন্ট লিস্টের ১১টি আসন রয়েছে। এই জোটের সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকোটের পক্ষে আইনপ্রণেতার সংখ্যা ৬৭ জনে উন্নীত হবে, যেখানে সরকার গঠনের জন্য ৬১ জনের সমর্থন প্রয়োজন।
এর আগে আটটি আসন পাওয়া আরব নেতৃত্বাধীন দল রা’আমও আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ৫৩। তবে এই জোটের সমর্থন আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজমের সাতটি আসনের মধ্যে চারটি নিয়ন্ত্রণকারী দল ‘ডেগেল হা তোরাহ’ জানিয়েছে, তারা কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে না। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেরেদি সম্প্রদায়ের পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাস করতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় এই উগ্র অর্থোডক্স দলটি নেতানিয়াহুর জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ। তাদের দাবি, বিদেশি সহায়তায় আরব দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করেছে। তবে বুধবার ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল অনুমোদন করে জানিয়েছে যে, জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বর্তমানে সরকার গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এই আলোচনার মাধ্যমেই তিনি সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীকে দায়িত্ব দেবেন। মনোনীত প্রার্থী ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। যদি কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী বছরের শুরুতে দেশটিতে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

















