রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাঠে দেশি-বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট বা খাদ্য পরিপূরক তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল এবং থানা পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান চালানো হয়। কারখানায় অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ তৈরি পণ্য ও ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জব্দ করা ওষুধের প্যাকেটে যুক্তরাজ্য, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। কোথাও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ময়মনসিংহের ভালুকার নাম থাকলেও অন্য একটি প্যাকেটে জাপানি কোম্পানির নামের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের নাম লেখা ছিল। সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহানের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, জব্দকৃত নকল ওষুধের বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। অভিযানের সময় কারখানার প্রায় দুই ট্রাক ওষুধ ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং আরও তিন ট্রাক মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তবে ট্যাবলেট তৈরির ভারী যন্ত্রটি নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেটি অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
এই কারখানার কার্যক্রম বুধবার সন্ধ্যায় বনানী থানা পুলিশের একটি অভিযানের মাধ্যমে প্রথম নজরে আসে। রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে। সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান জানান, আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪১ ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার রশিদে স্বাক্ষর করেছেন খালিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি, যার বাড়ি চারঘাট উপজেলার চকলক্ষ্মীপুর গ্রামে।
কারখানাটি স্থানীয়ভাবে আধাপাকা ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল এবং সবসময় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকত। বাড়ির মালিক হায়দার আলী ঢাকায় কর্মরত থাকায় তাঁর ভাই শামীম ও মা রিনা বেগম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোরের বাসিন্দা রেজাউল করিম মাসে আট হাজার টাকা ভাড়ায় বাড়িটি নিয়েছিলেন। রেজাউল করিম ‘নাটোর ভেষজ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়েছিলেন, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত। তবে রেজাউলের ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল জানান, প্রতারক চক্রটি অনলাইনে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব নকল সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করত। কারকুমা নামের একটি পণ্যের সূত্র ধরে বনানী পুলিশ অভিযানে আসে, যার প্রতিটি প্যাকেটের দাম ২ হাজার ১৭০ থেকে ২ হাজার ৩৯৯ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা ছিল। মোড়কে সরাসরি ওষুধ না লিখে ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে প্রচার করায় সরাসরি মামলা করার সুযোগ সীমিত থাকলেও অনুমোদনহীন কারখানা পরিচালনার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারখানার মালিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯–এর ৪১ ধারায় এই জরিমানা করা হয়।
কোরিয়ায় প্রস্তুত করা লেখা একটি প্যাকেটের গায়ে দাম ২ হাজার ৩৯৯ টাকা আর মালোয়েশিয়া লেখা একটি প্যাকেটের গায়ের দাম লেখা রয়েছে ২ হাজার ২৯০ টাকা।এসব ওষুধ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়।

















