জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশে প্রকাশিত ‘জবির নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়ে উঠছে নানা অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য ও অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে একটি লিখিত প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, নতুন ক্যাম্পাস একটি বৃহৎ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প। এর পরিকল্পনা, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, ডিপিপি অনুমোদন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সরাসরি যুক্ত। তাই প্রকল্প-সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর দায় চাপানো বাস্তবসম্মত নয়। প্রতিবেদনে ডিপিপি অনুমোদনে বিলম্ব, প্রশাসনিক অদক্ষতা, টেন্ডার অনিয়ম, মাস্টারপ্ল্যানে কারসাজি এবং বিল উত্তোলনে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর সপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য নথি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই বলে প্রশাসন দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ ধরনের সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, প্রকল্পের প্রতিটি কার্যক্রম সরকারের প্রচলিত আর্থিক নীতিমালা ও বিধি-বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি ধাপ অতিক্রম করতে সময় লাগা স্বাভাবিক, যাকে অনিয়ম বা ব্যর্থতা হিসেবে দেখা অনুচিত। প্রশাসন আরও জানিয়েছে যে, তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। তবে তথ্য যাচাই না করে অনুমাননির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। এছাড়া, সংবাদ প্রকাশের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত ও তথ্য-প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এতে প্রতিবেদকের কোনো ব্যক্তিগত মতামত নেই। বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিবাদলিপিটি সুনির্দিষ্ট তথ্য খণ্ডনের পরিবর্তে সামগ্রিকভাবে সংবাদটিকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে। প্রতিবেদকের মতে, প্রতিবাদলিপিতে সংবাদমাধ্যমের নাম ‘ডেইলি বাংলাদেশ’-এর পরিবর্তে ‘দৈনিক বাংলাদেশ’ উল্লেখ করা এবং এআই বা চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের মতো অপেশাদারিত্বের ছাপ রয়েছে। এছাড়া প্রতিবাদলিপির ভাষা কিছুটা হুমকিসূচক বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

















