জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া ৮৮ শতাংশ মামলাই এখনো তদন্ত পর্যায়ে ঝুলে আছে। গত দুই বছরে সারা দেশে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে মাত্র ২৫৯টির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা মোট মামলার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর মধ্যে মাত্র দুটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম অর্ণব ১৯শে জুলাই বসিলা ব্রিজের ঢালে গুলিতে নিহত হন। ঘটনার দুই মাস পর তার মা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বর্তমানে পিবিআইয়ের শ্যামলী অফিসের পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি জানান, সব আসামি অজ্ঞাত হওয়ায় এবং ঘটনাস্থলের কোনো ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ায় আসামি শনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাক্ষী পাওয়া যায়নি। একই এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. মনসুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তও দেড় বছর ধরে ঝুলে আছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, আন্দোলনের পর একই ঘটনায় একাধিক মামলা, মামলার এজহারে হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি, এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত বা প্রবাসীদের আসামি করার ফলে প্রকৃত দায় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীরা ভীত হওয়ায় সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী নন, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই মামলাগুলোতে তাড়াহুড়ো করে চার্জশিট দিলে আদালতে টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে, তাই কর্মকর্তারা নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ওপর জোর দিচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের পর সারা দেশে মোট ৮০১টি হত্যা মামলা এবং ১ হাজার ৬৪টি হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য অভিযোগে মামলা হয়েছে, যেখানে মোট আসামি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩১ জন। ঢাকায় দায়ের হওয়া ৭৮৯টি মামলার মধ্যে ২১শে জুলাই পর্যন্ত পুলিশ মাত্র ৩৭টির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পিবিআইয়ের কাছে থাকা ২৭৯টি মামলার মধ্যে ২০৮টির তদন্ত শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মো. ওমর ফারুক ফারুকী জানান, তদন্তে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক নির্দোষ ব্যক্তি আসামি হয়েছেন আবার প্রকৃত দোষীরা বাদ পড়েছেন। তবে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, এজহারে উল্লিখিত স্থানে ভিকটিমের উপস্থিতি না থাকা এবং ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলো তদন্তকে সময়সাপেক্ষ করে তুলেছে।

















