নেত্রকোনার দুর্গাপুরের নিহত সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকিরের স্ত্রী আনন্দিতী সাংমা তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চেয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষে নিহত সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক অনুদান ও পোশাক উপহার দেন। এরপরই সাংবাদিকদের কাছে নিজের আকুতি তুলে ধরেন আনন্দিতী সাংমা। তিনি বলেন, আমার স্বামী আর ফিরে আসবে না, কিন্তু যারা তাঁকে খুন করেছে, তাদের বিচার চেয়েছি—এটুকু অন্তত আমি আমার সন্তানদের বলতে পারব। আমি খুনিদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।
নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী জানান, লুৎফর জামান নিয়মিতই বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে পোস্ট করতেন এবং এর জেরে তাঁকে হুমকি দেওয়া হতো। মৃত্যুর আগে তিনি গত বুধবার একটি পোস্ট করেছিলেন যে, ‘কারা জানি ২৫টি বক মেরে খাইছেন।’ এমন একটি হেডলাইন দেওয়ার পর থেকে লুৎফর জামান বেশ চাপের মধ্যে ছিলেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে লুৎফর জামানকে ফোনে কেউ ভিডিও ডিলিট করতে বলেছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। দুর্গাপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনিয়ম নিয়েও তিনি সরব ছিলেন, যা তাঁকে হুমকির মুখে ফেলেছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আনন্দিতী সাংমা বলেন, আমার চার বছর বয়সী মেয়ে মাঝে মাঝে বাবাকে খোঁজে, আর ছেলেটি তো এখনো কথা বলতে শেখেনি। এখন আমাকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। আমি একজন নিবন্ধিত নার্স এবং বিএসসি নার্সিং সম্পন্ন করেছি। সরকারি নার্সিংয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও বর্তমানে আমার কর্মসংস্থানের খুব প্রয়োজন। সন্তানদের দেখাশোনার সুবিধার্থে ঢাকায় একটি চাকরির জন্য তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

















