সারাদেশের ন্যায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হারে বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নিজ উপজেলা হিসেবে পরিচিত কচুয়ায় এবারের এইচএসসিতে পাসের হার ৩৯.৯৬ শতাংশ এবং আলিমে ৬৪.১৩ শতাংশ। এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩ জন এবং আলিমে ৭ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯টি কলেজ থেকে ১ হাজার ৫৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৬২৯ জন পাস করেছেন। অন্যদিকে ১৪টি মাদ্রাসা থেকে ৪৬০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৯৫ জন। ফলাফলের এই ধস এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফলাফলের দিক থেকে এবারও উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে অজয় পাড়া গাঁয়ের হাসিমপুর গ্রামে অবস্থিত ড. মনসুর উদ্দিন মহিলা কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর ডিএস ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, যেখান থেকে ৪৯ জন অংশ নিয়ে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ২ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা কলেজে নিয়মিত গেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকির অভাব রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিয়মিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ। ড. মনসুর উদ্দিন মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ভালো ফলাফলের জন্য শুধু ঘরে পড়াশোনা যথেষ্ট নয়, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান ও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশ্রাফ জানান, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতির অভাব, পাঠদানের মান কমে যাওয়া এবং সার্বিক নজরদারির অভাবেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও তলানিতে ঠেকবে।

















